
কক্সবাজার মানেই শুধু সমুদ্রসৈকত নয়। পাহাড়, বন ও মেরিন ড্রাইভের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। শহরের কোলাহল পেরিয়ে মেরিন ড্রাইভ ধরে এগোলেই দেখা মেলে ইনানী জাতীয় উদ্যানের। সবুজে ঘেরা এই বনাঞ্চলের পাশেই রয়েছে ইনানী সমুদ্রসৈকত। ফলে একই ভ্রমণে পাহাড়, বন ও সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ রয়েছে।
ইনানী সংরক্ষিত এলাকার বিস্তৃতি প্রায় ৭ হাজার ৭০০ হেক্টর। সরকারি নথি অনুযায়ী, এখানে ৪৪৩ প্রজাতির উদ্ভিদের উপস্থিতির তথ্য রয়েছে। বনভূমির বিভিন্ন অংশে গাছপালা, ঝোপঝাড় ও প্রাকৃতিক সবুজের দেখা মেলে।
ইনানী ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ মেরিন ড্রাইভ। একদিকে পাহাড় ও বন, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত জলরাশি—পুরো পথেই রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নানা দৃশ্য। সময় হাতে থাকলে ইনানীর সঙ্গে হিমছড়িও ঘুরে দেখা যায়।

ঢাকা থেকে প্রথমে কক্সবাজার যেতে হবে। বাসে সাধারণত ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা এবং সরাসরি ট্রেনে প্রায় ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। বিমানে গেলে সময় লাগে প্রায় ১ ঘণ্টা। বাসের ভাড়া পরিবহন ও আসনের ধরন অনুযায়ী আনুমানিক ৯০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিমানের ভাড়া প্রায় ৪ হাজার ৬০০ থেকে ১২ হাজার টাকা হতে পারে।
কক্সবাজার শহরে পৌঁছে কলাতলী বা মেরিন ড্রাইভ এলাকা থেকে সিএনজি, অটোরিকশা, ইজিবাইক কিংবা জিপে ইনানী যাওয়া যায়। যানবাহনভেদে কক্সবাজার থেকে ইনানী যেতে প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা সময় লাগে। রিজার্ভ সিএনজির যাওয়া-আসার ভাড়া আনুমানিক ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। দলবেঁধে গেলে জিপ বা চান্দের গাড়ি রিজার্ভ করে প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় ঘোরা যায়।
কক্সবাজার থেকে স্থানীয় অটোরিকশা বা ইজিবাইকে ইনানী যাওয়া-আসায় জনপ্রতি আনুমানিক ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হতে পারে। দলবেঁধে জিপ বা চান্দের গাড়ি নিলে ভাড়া ভাগ করে খরচ কমানো সম্ভব। ইনানী সৈকতে সাধারণত আলাদা প্রবেশমূল্য নেই। তবে গাড়ি রাখার জায়গা, খাবার ও ব্যক্তিগত খরচ আলাদা।
শুষ্ক মৌসুমে, বিশেষ করে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত কক্সবাজার ভ্রমণের আবহাওয়া তুলনামূলক আরামদায়ক থাকে। ইনানীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে সকাল বা বিকেল বেছে নেওয়া ভালো। বিকেলে মেরিন ড্রাইভ ধরে ফেরার পথে সূর্যাস্তের দৃশ্যও উপভোগ করা যায়।
কক্সবাজারে অবস্থান করলে ইনানী জাতীয় উদ্যান ও আশপাশের এলাকা একদিনেই ঘুরে দেখা সম্ভব। সকালে বের হয়ে হিমছড়ি হয়ে ইনানীর দিকে যাওয়া যায়। এরপর বনাঞ্চল ও সমুদ্রসৈকত ঘুরে বিকেলের মধ্যে কক্সবাজার শহরে ফেরা সম্ভব।
প্রকৃতি, সমুদ্র ও পাহাড়ের সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করতে চাইলে ইনানী হতে পারে কক্সবাজার ভ্রমণের ভিন্ন অভিজ্ঞতা। সমুদ্রসৈকতের ভিড় থেকে কিছুটা দূরে শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে ভ্রমণতালিকায় রাখা যেতে পারে জায়গাটি।